বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দুর্নীতির কারণে অর্থনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সঠিক নীতি ও বাস্তবায়ন থাকলে পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব। নিচে বাস্তবভিত্তিক কিছু পদক্ষেপ তুলে ধরছি:
১. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতির ধারাবাহিকতা :- যখন রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থির থাকে, তখন বিনিয়োগ কমে যায়, ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হয়, কর আদায়ও কমে যায়। তাই—
নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর আস্থা তৈরি করা
প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা
দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতি স্থির রাখা
এগুলো জরুরি।
২. দুর্নীতি কমাতে কঠোর পদক্ষেপ
দুর্নীতি রাজস্ব আদায়ের বড় বাধা। এটি কমাতে—
সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের বাধ্যতামূলক প্রকাশ
বড় প্রকল্পে স্বচ্ছ ই-টেন্ডার ব্যবস্থা
স্বাধীন দুর্নীতি দমন প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা
ঘুষ ও কর ফাঁকির মামলার দ্রুত বিচার
এসব কার্যকর হতে পারে।
৩. রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উপায়
বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন তুলনামূলক কম। রাজস্ব বাড়াতে:
ক) কর নেট বাড়ানো
অনেক আয়ক্ষম ব্যক্তি বা ব্যবসা কর ব্যবস্থার বাইরে থাকে।
ডিজিটাল আয়কর রিটার্ন
ব্যাংক, জমি, গাড়ি, ব্যবসা লাইসেন্সের ডেটা সংযুক্ত করা
অঘোষিত আয় শনাক্তে ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার
খ) ভ্যাট ও কাস্টমসে ডিজিটাল নজরদারি
অনলাইন ভ্যাট চালান
আমদানি-রপ্তানিতে স্বয়ংক্রিয় কাস্টমস সিস্টেম
নগদ লেনদেন কমিয়ে ট্রেসযোগ্য পেমেন্ট
বাংলাদেশে রাজস্ব প্রশাসন আধুনিকায়নের জন্য কাঠামোগত সংস্কারও নেওয়া হয়েছে, যেখানে রাজস্ব নীতি ও সংগ্রহ ব্যবস্থাকে আলাদা করার উদ্যোগ দেখা গেছে। এর লক্ষ্য ছিল স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো। �
VDB | LOI +1
৪. কালো টাকা ও পাচার রোধ
রাজস্ব বাড়াতে অর্থপাচার বন্ধ করাও জরুরি।
আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং তথ্য বিনিময়
সন্দেহজনক বড় লেনদেন মনিটরিং
বেনামি সম্পদের তদন্ত
৫. স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করা
সব সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে না নিয়ে—
সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পর্যায়ে আর্থিক জবাবদিহিতা
স্থানীয় কর ব্যবস্থার উন্নয়ন
এতে কেন্দ্রীয় চাপও কমবে।
আমার মতে, দুর্নীতি কমানো + ডিজিটাল কর ব্যবস্থা + রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—এই তিনটি একসাথে কাজ করলে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে এবং উন্নয়ন টেকসই হবে।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার পক্ষ থেকে মিনহাজ কবীর (আবির)